আনন্দী লালুভাই পারমার
রাজ্য : গুজরাট
জেলা : ভাদোদরা
ব্লক : ওয়াঘোডিয়া
গ্রাম : জাভেরপুরা
স্বনির্ভর গোষ্ঠী : প্রগতি সখী মন্ডল
জীবিকার কার্যকলাপ : পাটজাত পণ্য উৎপাদন
লাখপতি দিদি'র যাত্রা
শ্রীমতি আনন্দী লালুভাই পারমারের একজন দ্বিধাগ্রস্ত গৃহবধূ থেকে সামাজিক নেত্রী হয়ে ওঠার যাত্রা স্থিতিস্থাপকতা এবং ক্ষমতায়নের এক নিদর্শন। তিনি 'প্রগতি সখী মণ্ডল'-এ যোগ দিয়ে এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শুরুতে বাড়ির বাইরে পা রাখাটাও তাঁর কাছে কঠিন মনে হতো, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তিনি আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এবং অবশেষে তাঁর গোষ্ঠীর সভানেত্রী হন, যা ছিল তাঁর পরিবর্তনের শুরু। আনন্দীর জীবনে বড় সুযোগ আসে যখন তিনি মিটার রিডার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং MGVCL-এ একটি চাকরি পান, যেখানে তিনি পুরো ওয়াঘোডিয়া ব্লকে বিদ্যুৎ মিটারের রিডিং এবং বিল দেওয়ার কাজ করতেন। এই স্থায়ী আয় ছিল তাঁর আর্থিক স্বাধীনতার প্রথম ধাপ। নিজের গোষ্ঠীর পাশাপাশি, তিনি RSETI থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পাটের ব্যাগ, ফুলদানি এবং ফাইলের মতো পাটজাত পণ্য তৈরির কাজও শুরু করেন। এখন তিনি বিভিন্ন আয়ের উৎসের ভারসাম্য বজায় রেখে মাসে ১৫,০০০ - ১৬,০০০ টাকা উপার্জন করেন। তাঁর নেতৃত্ব কেবল আর্থিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না—তিনি 'জাভেরপুরা গ্রাম্য সখী সংঘ'-এর কোষাধ্যক্ষ হন এবং সফলভাবে তাঁর গ্রাম থেকে শোষণকারী বেসরকারি মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থাগুলোকে নির্মূল করেন। সামাজিক পরিবর্তনের প্রতি উৎসাহী হয়ে তিনি মেয়েদের শিক্ষা এবং মহিলাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে কাজ করেন, যাতে তাঁর গ্রামে কোনো রক্তাল্পতায় (anemic) ভোগা মহিলা না থাকেন। এখন আর্থিকভাবে স্বাধীন এবং একটি যানবাহনের গর্বিত মালিক হয়ে তিনি তাঁর গ্রামের মহিলাদের বাধা ভেঙে স্বপ্ন পূরণের জন্য অনুপ্রাণিত করছেন।