কুমারী দয়া ভুগওয়াডে
রাজ্য : মধ্যপ্রদেশ
জেলা : বড়ওয়ানি
ব্লক : পতি
গ্রাম : পোখল্যা
স্বনির্ভর গোষ্ঠী : সরস্বতী আজীবিকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী
জীবিকার কার্যকলাপ : দর্জি কাজ, জেনারেল স্টোর
লখপতি দিদির যাত্রা :
মধ্যপ্রদেশের বারওয়ানি জেলার বাসিন্দা দয়া শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নিজের জীবন এবং তাঁর পরিবারের পরিস্থিতি বদলে দিয়েছেন। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তাঁর হাঁটা অসম্ভব ছিল, কিন্তু দয়া তাঁর পরিস্থিতিকে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেননি। পরিবারের দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করতে পারলেও তিনি হার মানেননি।
দয়া সরস্বতী আজীবিকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যোগদান করেন, যা তাঁর আর্থিক স্বাধীনতার অভিমুখে যাত্রার সূচনা করে। তিনি গোষ্ঠীর সভাগুলিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সম্পাদিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাঁকে কথা বলার এবং নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়। তাঁর আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য দয়া জেনারেল স্টোর ব্যবসা শুরু করতে গোষ্ঠীর আর.এফ (RF) তহবিল থেকে ৭,৫০০ টাকা ঋণ নেন। তিনি অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা তহবিল গ্রহণ করেন, যা তাঁকে তাঁর ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে এবং দর্জি কাজের জন্য একটি সেলাই মেশিন কিনতে সাহায্য করে। উভয় কর্মকাণ্ডই সফল হয় এবং তিনি দিনে ৬০০-৭০০ টাকা উপার্জন করতে শুরু করেন।
নিজের ব্যবসার সম্ভাবনা উপলব্ধি করে দয়া মুদ্রা ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১,০০,০০০ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর মুদি ব্যবসার সম্প্রসারণ করেন এবং একটি আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিঙ্কস সেন্টার যুক্ত করেন। বিভিন্ন জীবিকামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁর মাসিক আয় বর্তমানে প্রায় ৩০,০০০ টাকা।
পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে পরিবারের আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানকারী হয়ে ওঠার এই যাত্রা তাঁকে তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন আদর্শ (রোল মডেল) করে তুলেছে।